fbpx

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চিত্র
বাংলা ভাষার গুরূত্ব

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্’র প্রস্তবনা ও ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের পটভূমি


বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রথম প্রস্তাবঃ ২৪ জুলাই ১৯৪৭ সালে “দৈনিক আজাদ” প্রত্রিকায় ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। তিনি এই নিবন্ধে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষা কে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।
উর্দুঃ উর্দু একটি তাঁতার শব্দ। এর অর্থ হল সেনানিবাস। মোগল সম্রাট আকবর তার সেনাবাহিনীর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা লক্ষ্যে উর্দু নামে একটি ভাষার প্রচলন করেছিলেন। এর বর্ণমালা নেয়া হয়েছিলেন আরবি থেকে এবং শব্দভান্ডার নেয়া হয়েছিলেন হিন্দি থেকে। পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু। হিন্দি কথাগুলোকে আরবি হরফ দিয়ে বানান করে লেখা হলে সে ভাষাকে উর্দু ভাষা বলে। তিনি তার পিতা হুমায়ন মৃত্যেুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে সম্রাট হয়েছিলেন। মুগল সম্রাট আকবর উর্দু ভাষার প্রচলন করেন। তিনি বাংলা সনের প্রবর্তন করেন, মনসবদারি প্রথা চালু করেন ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে, দ্বীন-ই-ইলাহী নামে একটি নতুন ধর্ম্ প্রচলন করেন ও উর্দু ভাষা প্রচলন করেন সম্রাট আকবর।
*দ্বীন-ই-ইলাহীঃ মুগল সম্রাট আকবর দ্বীন-ই-ইলাহী নামে নতুন একটি ধর্ম প্রচলন করেন। এই ধর্মের অনুসারী ছিলেন মাত্র ১৮ জন। এই ধর্মের অনুসারীরা একজনের সাথে অন্য জনের সাথে দেখা হলে আসলামুলাইকুম্ না বলে আল্লাহু আকবর বলত এবং উত্তরে ওয়ালাইকুম সালাম না বলে ইয়া-জাল্লা-জালহু বলত। এই ধর্মানুসারীরা মৃত্যেুর পূর্বে নিজ নিজ ফাতেহা বা মিলাদ পড়িয়ে যেতেন। এই ধর্মানুসারীরা কোনো রকম মাছ-মাংস ভক্ষণ করতেন না। দ্বীন-ই-ইলাহী ধর্মের অনুসারীরা মৃত্যেুর পর পশ্চিম দিকে মাথা ও পূর্ব দিকে পা দিয়ে দাফন করা হত।
গণ পরিষদ উত্থাপনঃ ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গণ পরিষদে ১ম অধিবেশন বসে। এই দিন কুমিল্লার কংগ্রেস সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বাংলা কেও গণ পরিসদে অফিসিয়াল ভাষা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনঃ ২মার্চ ১৯৪৮ সালে কামরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ছাত্র ও যুব সংগঠন গুলো সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছিল।১১ই মার্চ ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম ভাষার দাবিতে মিছিলে বের হয়েছিল। ১১ই মার্চকে বাঙালী জাতি প্রথম ভাষা দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৪৯-১৯৫১ সাল পযর্ন্ত ১১ই মার্চকে বাঙালী জাতি ভাষা দিবস হিসেবে পালন করেছিল।
ঢাকায় মিস্টার জিন্নাহঃ ১৯ মার্চ ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের জনক ও প্রথম গর্ভনর জেনারেল মিস্টার জিন্নাহ জীবনের শেষবারে মত ঢাকা সফর আরম্ভ করেন। এই সফরকালীন ২১ মার্চ ১৯৪৮ সালে ঢাকার রেসর্কোস ময়দানে (বর্তমানে শহীদ সোহারা্ওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪শে মার্চ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে দুটি পৃথক সমাবেশে বক্তৃতা করেন এবং উভয় ভাষণে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। কার্জন হলে ভাষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা না না বলে প্রতিবাদ করেছিল। জিন্নাহের পুরো নাম ছিল কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। মিস্টার জিন্নাহ দ্বি-জাতি তত্ত্বের ধারণা দেন। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্টের জন্ম হয়।
৩০শে জানুয়ারি ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ঢাকায় ঘোষণা করেন উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা। তৎকালীন সময়ে ঐখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন।
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনঃ ৩০শে জানুয়ারি ১৯৫২ সালে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে এই পরিষদ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতাল আহ্বান করেছিল।
১৪৪ ধারা জারিঃ ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে নুরুল আমিন সরকার ঢাকা শহরে ১মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন। ১৪৪ ধারার মূল বিষয় হল সভা-সমাবেশ, মিটিং মিছিল নিষিদ্ধ ও একজায়গায় সমাবেশ হ্ওয়া যাবে না।
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ( বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ) ছাত্র ও জনতার এক সমাবেশ আরম্ভ হয়েছিল। এই সমাবেশে ভাষা সৈনিক গাজী উল হক সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি মিটিং মিছিল নিষিদ্ধ ছিল তাই আব্দুস সামাদ আজাদ ১০ জনী মিছিল বের করা প্রস্তাব দেন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম ভাষা শহীদ রফিক।
২১ এর প্রথম শহীদ মিনারঃ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজে ২১ এর প্রথম শহীদ মিনারটি নিমার্ণ করা হয়েছিল।
ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনারঃ ডা. বদরুল আলম ও সাঈদ হায়দার শহীদ মিনারের নকশা করেছিলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে ভাষা শহীদ শফিউর এর পিতা মৌলভী মাহবুর রহমান ১২ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট শহীদ মিনারটি উদ্ভাবন করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দিয়েছিল।
২১ এর প্রথম কবিতাঃ “ কাঁদতে আসি নি ফাসির দাবি নিয়ে এসেছি’’ চট্টগ্রামের মাহবুল আলম চৌধুরি কবিতা রচনা করেন। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারি গানটি আবদুল গাফফার চৌধুরি ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন আহত ভাষা শহীদের শিউরে বসে রচনা করেছিলেন। গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ। বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
২১ এর প্রথম সংকলনঃ ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পদনায় “২১ ফেব্রুয়ারি শিরোনামে” ২১ এর প্রথম সংকলন বের হয়।
১৯৪৯ সালে আ্ওয়ামী লীগ জন্ম লাভ করে।
২৩ মার্চ ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান বলৎবদ বা কার্যকর হয়েছিল। এই সংবিধানের ২১৪ নং অনুচ্ছেদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মযার্দা প্রধান করা হয়েছিল। পাকিস্তানের সংবিধানের মোট অনুচ্ছে ২৩৪ টি।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনঃ
১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাঙালী জাতীয় জীবনের যুগন্তকারী ঘটনা। পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দী দল দুটি ছিল মুসলিম লীগ ও যুক্তফ্রন্ট।যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা আর মুসলিম লীগের প্রতীক ছিল হারিকেন। তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তারিখে কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। তাই এ নির্বাচনকে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনও বলা হয়ে থাকে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনঃ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যই আ্ওয়ামী লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল মিলে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ১০ মার্চ ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০৯ টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসন ছিল ৯টি। সাম্প্রদায়কতার ভিত্তিতে এই আসনগুলো বণ্টন করা হয়েছিল। মুসলমানদের জন্য ২৩৭টি এবং হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭২টি।
নির্বাচনী প্রতীকঃ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যু্ক্তফ্রন্ট নৌকা প্রতীক এবং মুসলিম লীগ হারিকেন প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা মেনিফেস্টো নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। ২১ দফার ১ম দাবি ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা।
নির্বাচনী ফলাফলঃ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩ টি আসন লাভ করে।অন্যদিকে মুসলিম লীগ ৯টি আসন পায়। সতন্ত্র প্রার্থী পায় ৪টি আসন এবং খেলাফতে রব্বানী পায় ১টি আসন। সরকার গঠন করতে যুক্তফ্রন্ট কে ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ১৫৬ টি আসনের প্রয়োজন ছিল।
সরকার গঠনঃ ৩ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কে মুখ্যমন্ত্রী করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান গোপালগঞ্জ আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্ট সরকারে সমবায় ও কৃষিাঋণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
সরকার বরখাস্তঃ ৩০মে ১৯৫৪ সালের পাকিস্তানের তৎকালীন গর্ভনর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ সাম্প্রদায়কতার অভিযোগ এনে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করেন।ঢাকার কেন্দ্রীয় কারগারে বাঙালী ও অবাঙালী ওয়াডেনদের মধ্যে দাঙ্গা লাগানো হয়, নারায়গঞ্জের আদমজী জুম মিলে বাঙালী ও অবাঙালীদের মধ্যে দাঙ্গা লাগানো হয় এবং কর্ণফুলী পেপার মিলসে বাঙালী ও অবাঙালীর দাঙ্গা লাগানো হয়। যার দোষ চাপানো হয় যুক্তফ্রন্ট সরকারে উপর। এই মিথ্যা দোষ চাপিয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করা হয়।

বনজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ ও খনিজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ সম্পদ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বনভূমি তিন প্রকারঃ১.ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমিঃ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের এলাকা জুড়ে এ বনাঞ্চল বিস্তৃত।

Read More »
বাংলাদেশের কুটির শিল্প

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ এর উন্নয়ন কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে এখনও কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। শিল্পখাতগুলোতে যথাযথ দিকনির্দের্শন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সরকারী আনুকুল্য প্রভৃতির মাধ্যমে

Read More »
শিক্ষা কমিশন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন’ গঠন শিক্ষা কমিশনঃ ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষা কমিশনের যাত্রা শুরু ১৮৮২ সালে। উইলিয়াম হান্টারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনের অন্যতম

Read More »
Layer 1
Login Categories
error: Content is protected !!
এই ওয়েবসাইটটি কুকিজ ব্যবহার করে এবং আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা মসৃণ করার জন্য আপনার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য (ওয়েব ব্রাউজিং সম্পর্কীয়) সংরক্ষণ করে। আপনার ব্রাউজারের login-এর তথ্য সংরক্ষণের জন্যে "Ok, I acknowledge" বাটনে ক্লিক করুন।