fbpx

যে ২২টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ‘বাইডেন-হ্যারিস’ প্রশাসনের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব ব্যবস্থায় পরিবর্তন হবে!

★★ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিঃ★★
দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় এসব অঞ্চল নিয়ে একদিকে চীনের “বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ” অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের “ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি”। এই সিচুয়েশনে বাংলাদেশ কি করবে? চায়নার সাথে যোগ দিবে নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে? উভয় দেশকেই প্রত্যাহার করবে নাকি দুই দেশের সঙ্গেই যোগ দিয়ে একটা ব্যালেন্স করবে?
দক্ষিণ এশিয়া, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে এবং এসব অঞ্চলে চীনের প্রভাব হ্রাস করতে ২০১১ সালে ওবামা প্রশাসন ‘রিব্যালান্সিং টু এশিয়া’ ঘোষণা করে। এরপর ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এটাকে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ভিশন হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু এটা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনও বেশিদূর এগোতে পারেনি।যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতকে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মনে করা হলেও ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য দেশগুলিকেও (বাংলাদেশ,মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা) এই ভিশনে অংশগ্রহণ করাতে চাইবে বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন।
একটু ডিপলি চিন্তা করে দেখবেন যে,
ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি এবং বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উভয়টিতেই দুইটি কম্পোনেন্ট (উপাদান) রয়েছে। একটি হলো নিরাপত্তা (Security/political) অন্যটি হলো অর্থনৈতিক(Economy)। অামার মনে হয় বাংলাদেশের উচিত উভয়ের সাথে অর্থনৈতিক বিষয়ের অংশীদার হওয়া।
যদি বাংলাদেশ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে তবে মনে হয় না, চীন এটিতে অসন্তোষ প্রকাশ করবে।উদাহারণ হিসাবে বলা যায়, জাপান যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা অংশীদার কিন্তু জাপান বেইজিং একসাথে বিশাল বিশাল ইকোনমিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত – সবগুলো দেশই যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু কিন্তু তারা চীনের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। তাহলে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা কোথায়! ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি একটি ভিশন এবং সবাই নিজেদের জাতীয় স্বার্থ দিয়ে এটিকে বিবেচনা করে এবং এ কারণে এটি প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা অর্থ এবং গুরুত্ব রাখে।
★★সারা বিশ্বে অস্ত্র ব্যাবসা বৃদ্ধিঃ★★
করোনা ভাইরাসের কারনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ১৯৩৩ সালের পর সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।তাই বাইডেন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন রিজার্ভের বড়ো একটা অংশ আসে বর্হিবিশ্বে অস্ত্র বিক্রি করে। তাই অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে মোসাদ ও সিআই এর মাধ্যমে মধ্যোপ্রাচ্যে ও আফ্রিকার দেশগুলোতে পুনরায় যুদ্ধের ঝমঝমা বাজিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করে ইকোনমি রিকভারির সুযোগটা হাতছাড়া করবেন কি!! কারন বাইডেন যে ২০০৮ সালে তার বসের (বারাক ওবামা) কাছ থেকে শিখেছিলেন কিভাবে তিনি আট সালের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে সাধারণ আমেরিকানদের প্রশংসা কুরিয়েছেন।
নোটঃ আরো ক্লিয়ার আইডিয়া পেতে আমার টাইমলাইনে দেওয়া এই পোস্টের পিকচারগুলোর সাথে সংযুক্ত করা ক্যাপশনটাও পড়ার অনুরোধ করছি।
★★ওয়াশিংটন কনসেনশাসঃ★★
বিশ্বব্যাপী আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্র, বহুজাতিক করপোরেশনগুলো নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ওয়াশিংটন সমঝোতা (Washington Consensus)।যার সঙ্গে যুক্ত চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা।এই চারটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক পুঁজির প্রসারে যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরাশক্তিগত ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ রাখতে তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প এসকল প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাবহার করে বিশ্বে আমেরিকার নেতৃত্বে ধরে রাখতে পারেননি।তাই বাইডেন- হ্যারিস প্রশাসন এসকল প্রতিষ্ঠানে ফান্ডিং বৃদ্ধি করে ঘরে বসে বিশ্ব রাজনীতির কলকাঠি নাড়বেন। করোনা কালীন অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে এসকল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার দেশগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ফাদে ফেলে এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের খনিজ সম্পদ আহরণ করার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে যাবেন কিনা তা বলে দিবে সামনের দিনগুলো!
★★মুসলিম রাষ্ট্রগুলো থেকে মার্কিনী সেনা প্রত্যাহার না করাঃ★★
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসির ওপর তালেবানদের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তার সার্থে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই তাদের সামরিক ঘাটি স্থাপন করে। বর্তমানে বিশ্বের যে সাতটি দেশে মার্কিন সেনারা সবচেয়ে বেশি তৎপর সেগুলো হলো আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়া। বুঝতে পারছেন?? সবগুলাই মুসলিম দেশ। বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসার পূর্বে বুশের সমালোচনা করে বলেছিলেন তিনি ঔসব দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন কিন্তু সেনা প্রত্যাহার দূরের কথা তিনি আরো সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছেন। তারপর ট্রাম্পও তার রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে বলেছিলেন আফগানিস্তান থেকে মার্কীন সেনা প্রত্যাহার করবেন কিন্তু চার বছর চলে গেলো সেনা প্রত্যাহার করেন নি। একইভাবে ডেমোক্রাটিক দলের প্রথম প্রেসিডেনশাল ডিবেটে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস বলেছেন আফগান থেকে মার্কিনী সেনা প্রত্যাহার করবেন কিন্তু বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনও সেনা প্রত্যাহার করবেন না। কারনটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়ে যারা কাজ করে তারা মনে করেন এসব মুসলিম দেশগুলো থেকে আমাদের সেনা প্রত্যাহার করা মানেই হলো তালেবান ও আইএস সহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর জন্য সেইফ হেভেন তৈরি করা। এসব অঞ্চলে মার্কিনী সেনা না থাকলে জঙ্গি বা জিহাদিরা পুনরায় তৎপর হবে, একত্রিত হবে, স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবে, নাইন-ইলাভেনের মতো হামলা চালাতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই বাইডেন পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করবে।
★★রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপঃ★★
সাধারণত ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতি ছিল মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর কোরিয়া, ইরান কেন্দ্রিক। তিনি এই উপমহাদেশ, আফ্রিকা বা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর দিকে খুব একটা নজর দিতেন না। কিন্তু ডেমোক্রেটরা শুধুমাত্র উপমহাদেশ কেন্দ্রিকই নয় বরং বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথেই কূটনীতিতে মনোযোগী। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় গত কয়েকদিন আগে নির্বাচন হয়েছে। অনেকটা স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় ২য় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন রাশিয়ার সমর্থিত জন মাগুফোলি।বাইডেন তখন ক্ষমতায় থাকলে বিরোধী চাদেমা দলের নেতা টুন্ডো লুসুকে সমর্থন করে সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনকে আরো বেগবান করে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতেন।বারাক ওবামার আমলে এই কাজটাই সুকৌশলে করতেন।
★★বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কঃ★★
ক) অনেকে মনে করছে বাইডেন ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশ পুনরায় জেএসপি সুবিধা পেতে পারে। রানা প্লাজার ঘটনার পূর্বে বাংলাদেশের পোশাক বিনা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হতো।যেটাকে জেএসপি সুবিধা বলে। রানা প্লাজার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক আন্দোলনের পর এই ওবামা- বাইডেন প্রশাসনই জেএসপি সুবিধা বাতিল করেছিলো।তাছাড়া বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি ও শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনগুলো সন্তুষ্ট নয়।যেহুতো ডেমোক্র্যাটরা সবসময় শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে কথা বলে তাই তারা চাইবে না বাংলাদেশকে জেএসপি সুবিধা দিয়ে পুনরায় শ্রমিক আন্দোলনের মুখোমুখি হোক। তবে এসকল দিক মাথায় রেখেই বাংলাদেশ সরকারও সর্বচ্চো চেষ্টা করবে জেএসপি সুবিধা আদায় করা যায় কিনা। যেহুতো পাশ্ববর্তী দেশ ভিয়েতনাম বিনা শুল্কে তাদের পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে পারছে।
খ) অনেকেই মনে করছেন একদিকে ভারতের বিশাল ইকোনমি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির বাজারে ভারতের দখলদারিত্ব, চায়নার সাথে প্রত্যক্ষ শত্রুতা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসের জন্মভূমি অন্যদিকে রিসেন্টলি চায়না থেকে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন মূলক প্রকল্পে চায়নার অনুদান এসবের কারনে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখবে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি দেখবে। আসলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কিভাবে দেখবে সেটা মূলত নির্ভর করছে বাংলাদেশের ফরেন পলিসির উপর। এখন বাংলাদেশ যদি পারসুয়েসিভ কূটনীতির মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসনকে বুঝাতে পারে যে, ভূরাজনৈতিক ও বাস্তবতায় বাংলাদেশ স্ট্রাটেজিকলি গুরুত্বপূর্ণ তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বাধীন চোখে (Independently) দেখতে বাধ্য।
গ) আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সাথে পাবে কিনা সেটাও নির্ভর করছে বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতার উপর। তবে আমরা আশাবাদী।
★★যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত রুপ নিয়ে ফেরাঃ★
‘দ্যা লিমিটস ওব পাওয়ার’ বইয়ের লেখক এবং আমেরিকান হয়েও আমেরিকার সমালোচক প্রফেসর অ্যান্ড্রু বাকভিচ আমেরিকার রাষ্ট্রব্যবস্থায় পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে,
১)আমেরিকার বিশ্বনেতৃত্বকে (domination) কল্যাণকর বলে ধরে নিতে হবে। অর্থাৎ আমেরিকার উদ্দেশ্য অন্যের মঙ্গল করা।
২)ধরে নিতে হবে মার্কিন নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের দুর্বলতা (lapse) বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলার জন্ম দেবে।
৩)সে কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং তার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা জরুরি হলেও ন্যায়সংগত।
৪)অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের লক্ষ্যে আমেরিকার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে একাধিক অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক তৎপরতা কার্যকর করা প্রয়োজন।
৫)আমেরিকার বহির্দেশীয় কূটনীতি এবং রাজনীতি হবে আক্রমণাত্মক এবং যেকোনো শক্তিকে পরাজিত করা তার একমাত্র লক্ষ্য।
লক্ষ করে দেখবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ওবামা-বাইডেন প্রশাসনের মধ্যে এই পাচটি ফিচারের একটাও অনুপস্থিত ছিলো না।
★★ভারতের সাথে সম্পর্কঃ★★
প্রথমত জো বাইডেন তার প্রচারণা ওয়েবসাইটে ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা পুনর্বহাল, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) কড়া সমালোচনা করেছেন। এমনকি ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদ্য-নির্বাচিত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসও ভারতের হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদী সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। দ্বিতীয়ত গত বছর আমেরিকার টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবার জেতানোর ডাক দিয়েছিলেন। তাই অনেকেই মনে করতে পারেন মোদির -বাইডেন সম্পর্ক তেমন ভালো হবে না। আসলে বিষয়টা এরকম না। যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরনো মিত্র ভারত। ভারতের প্রত্যক্ষ শত্রু চীন আবার যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রত্যক্ষ শত্রু চীন। তাই কৌটিল্যের ভাষায় শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু।তাই দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাবকে কোনঠাসা করতে বাইডেন প্রশাসনের প্রয়োজন ভারতকে।
★★চীনের সাথে সম্পর্কঃ★★
অনেকেই মনে করতে পারেন চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ, বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, করোনাভাইরাস মহামারির জন্য দোষারোপ বা চাইনিজ ভাইরাস বলা এসবের কারনে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চীন সরকার ক্ষেপে আছে। তাই বাইডেন জিতে যাওয়ায় চীন খুশি হয়েছে। আসলে বিষয়টি এরকম নয়। ট্রাম্পের একলা চলো ফরেন পলিসির কারনে বৈশ্বিক নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে চায়না সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছিলো। বাইডেন ক্ষমতায় আসায় চীন একটু অস্বস্তিতেই আছে। চায়নার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যে বানিজ্য যুদ্ধ সেটা বাইডেন প্রশাসনও কন্টিনিউ করবেন তবে কিছুটা কৌশলে। কারন চায়নার সাথে বানিজ্য যুদ্ধে শুধু ট্রাম্পের স্বার্থই ছিলো না যুক্তরাষ্ট্রের জনগনেরও। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি চীন চুরি করছে। এব্যাপারে শুধু ট্রাম্প নয় ডেমোক্রেটিকরাও ক্ষিপ্ত।
★★জার্মানের সাথে সম্পর্কঃ★★
ডেমোক্রেটিকরা ক্ষমতায় আসায় এ যেনো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল।সাধারণত জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে যেসব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে, সেগুলোর অনেক ক্ষতি হয়েছে ট্রাম্পের মুক্ত বানিজ্যের ক্ষতিসাধন ও ট্রেড ওয়ার এর কারনে।ন্যাটো এর অর্থায়ন নিয়েও ট্রাম্প জার্মান ও ফ্রান্সের অনেক সমালোচনা করেছিলেন। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানীর সম্পর্ক পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।
★★যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্পর্কঃ★★
প্রথমতঃ ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের বর্তমানের অর্থনীতি একেবারে তলানিতে। দ্বিতীয়তঃ ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তৃতীয়তঃ ভয়াবহ ব্যাপার হলো ইরানের একসময়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও জনপ্রিয় নেতা জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করিয়েছেন তিনি। সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ এখনও ইরানিদের কাছে অন্যতম বড় এজেন্ডা। তবে, জো বাইডেনের শাসনামলে আবারও আলোচনায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে ইরানের সামনে। বাইডেনও আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে যাবেন এবং এক্ষেত্রে কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করবেন।
★★মিশরের সাথে সম্পর্কঃ★★
মিসরের সেনা-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কটা মোটামুটি ভালোই ছিলো। মিশরের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা, সাংবাদিক নির্যাতনসহ বহুমূখী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন নিরব ছিলো।একটা লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো যে, বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম, শ্রমিক ইউনিয়ন এসব নিয়ে সাধারণত ডেমোক্রেটিকরাই বেশি সক্রিয়।এসব দিয়েই তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে। তাই জো বাইডেনের বিজয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। কর্মীদের আশা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধীদের দমন-পীড়নের প্রশ্নে মিসরের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
★★ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কঃ★★
ইসরায়েল ছাড়া মধ্যেপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধি এবং মধ্যেপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সংরক্ষণ প্রায় অসম্ভব। তাই ইসরায়েলকে খুব দরকার বাইডেনের।ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন, এবার সেটিকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
★★আমেরিকার চোখে বিশ্বকে দেখবেনঃ★
বিখ্যাত বই ‘Politics Among Nations’ এর লেখক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক হ্যান্স মরগেনথু অনেক আগেই বলে গিয়েছিলেন, আমেরিকানরা বিশ্বকে শুধু তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখে। তারা মনে করে ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা মতোই হবে। অথবা অন্যরা আমাদের মতোই চিন্তা করবে এমন ধারণা তাদের।যারা মানে করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে আমাদের এতো মাথাব্যথা কিসের? মাথাব্যথাটা এই জন্য যে, আগামী ভবিষ্যতে কেমন হবে সেটা ডিপেন্ড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসির উপর। ৪৭ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যার আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিক নিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা তার এটা বুঝতে পারবেন আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর!
★★যুক্তরাজ্যের সাথে সম্পর্কঃ★★
যদিও জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বরিস জনসনের ব্রেক্সিটকে অনেক সমালোচনা করেছিলেন এবং
তিনি জনসনকে ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক ক্লোন বলে উল্লেখ করেছিলেন।তবুও মাথায় রাখতে হবে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের মধ্যে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্কটা ঐতিহাসিক। ফলে ভিন্নমতের হলেও বাইডেন-জনসন দেশের স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে মতৈক্যে থাকা সত্ত্বেও একসাথে কাজ করবে।পররাষ্ট্র নীতিতে ও বৈশ্বিক ইস্যুতে এই দুইদেশের অবস্থান একই জায়গায়।
★★রাশিয়ার সাথে সম্পর্কঃ★★
প্রথমত যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আরও বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, স্বৈরশাসকদের সঙ্গে কঠোর হওয়ার ঘোষণা জো বাইডেনের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের অন্যতম এজেন্ডা। দ্বিতীয়ত ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের(Meddling) কারনেই ডেমোক্র্যাটরা হেরেছিলো। তৃতীয়ত কোল্ড ওয়ার পিরিয়ড থেকেই মস্কো- ওয়াশিংটন সম্পর্ক শত্রুতাপূন্য কিন্তু বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসলে সম্পর্কটা আরো অনেক বেশি তিক্ত হয়।ট্রাম্পের আমলে তিক্ত সম্পর্কটা শিথিল হয়। তাই এখন সব মিলিয়ে বাইডেন-পুতিন সম্পর্ক অনেক শত্রুতাপূর্ণ হবে বলেই মনে করছেন থিংক ট্যাংকরা।
★★পোস্টটি অনেক বড়ো হয়ে যাবে বিদায় “ট্রাম্প থেকে বাইডেনের পলিসি গত পার্থক্য যেখানে যেখানে ” এই আলোচনাটি এখানে যুক্ত করা হয়নি। নিচে দেওয়া লিংক থেকে পড়ে আসুন।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1257073978018956&id=100011490968520
★★উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্কঃ★★
ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে সরাসরি দুইবার নেগোসিয়েশনে বসেও দাবি-দাওয়া আদায় করতে পারেনি। উত্তর কোরিয়াও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি চালিয়ে গেছে। কিম জং-উন একসময় জো বাইডেনকে ‘পাগলা কুকুর’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। বাইডেন প্রশাসন খুব সহজেই পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে যাবে না। সেক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্ক আবার ফিরে আসবে। কারন বাইডেন এখন তার পুরনো মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডাকে সাথে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক কার্যক্রম কোনঠাসা করতে সর্বচ্চো চেষ্টা করবেন।
★★কানাডার সাথে সম্পর্কঃ★★
আপনার জানেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে “ভার্চুয়াল আয়ল্যান্ড” বলা হয়। কারন যুক্তরাষ্ট্রের দুই পাশে সমুদ্র,এই সমুদ্র পথে যুক্তরাষ্ট্রকে কেউ আক্রমণ করতে পারবে না এবং বাকি দুই পাশে মাত্র দুটি দেশ কানাডা ও মেক্সিকো রয়েছে,এই দুটি দেশের সাথেও যুক্তরাষ্ট্রের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।তাই যুক্তরাষ্ট্র অনোকটা নিরাপদ।
ডেমোক্র্যাটরা জেতায় জাস্টিন ট্রুডো যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, তা নিশ্চিন্তে বলা যায়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকার সময় কানাডা-যু্ক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কঠিন হয়ে উঠেছে। জো বাইডেনও কানাডার নির্বাচনে জাস্টিন ট্রুডোকে পুনরায় নির্বাচিত করতে কানাডাবাসীকে আহবান করেছিলেন। গতকাল সকালেও ট্রুডো ফোন কলে বাইডেনের সাথে কথা বলেছেন। করোনা, জলবায়ু, বৈশ্বিক ইস্যুতে একসাথে কাজ করবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন।
★★অভিবাসন নীতিঃ★★
ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে বাইডেনের অভিবাসন নীতি হবে অনেকটা নমনীয়।
বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত অনেক সিদ্ধান্ত, যেগুলো তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জারি করেছিলেন, সেগুলো বাতিল করে দেবেন। সারা বিশ্বে স্কলারশিপের জাল ফেলে মেধাবীদের তুলে নিয়ে আসা ও সস্তায় শ্রমিক সংগ্রহ করার কাজটি তিনি হালকা করে নেওয়ার লোক না।তবে কিছু ভালো উদ্দেশ্যও আছেঃ
ক) তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্তে শিশুদেরকে তাদের পিতামাতার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার নীতি(Family Separation policy)।
খ) যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে আবেদনের সংখ্যার ওপর মি. ট্রাম্প যে সীমা বেঁধে
দিয়েছেন সেটাও বাতিল করবেন।
গ) বেশ কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন।
ঘ) এছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে শিশু বয়সে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা যেসব লোকজনকে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছিল তাদেরকেও রক্ষার কথা বলেছেন তিনি।
★★ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্কঃ★
ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখন বাইডেন প্রশাসনের হাত ধরে সেটা অনেক স্বাভাবিক হবে। কারনঃ
ক) গত কয়েকদিন আগে ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভালদিস ডোব্রোভকি বলেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের পরই দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
খ) মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পণ্য পরিবহন ও সেবার ওপর ৪শ’ কোটি ডলারের শুল্কারোপের কথা ভাবছিলেন ইইউ। তবে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হওয়ায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন ইউরোপীয় অঞ্চলের বাণিজ্য মন্ত্রীরা।
গ) এছাড়া বর্তমানে অন্য যে সব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে- সেগুলোর সমাধানে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান, ইউরোপীয় কমিশনের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট।
★★প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যোগঃ★★
জলবায়ুর পরিবর্তনকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে তার ক্যাম্পেইনে উল্লেখ করেছিলেন জো বাইডেন। তিনি কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনার জন্য তিনি সারা বিশ্বকে সাথে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।তার প্রথম কাজ হিসেবে প্যারিস চুক্তিতে পুনরায় যোগ দিবেন। এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা ২০২৫ সালের মধ্যে ২০০৫ সালের তুলনায় ২৮% কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন।পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির গবেষণায় তিনি প্রায় পৌনে দুই ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।তিনি চান অন্যান্য দেশগুলোকে সাথে নিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন শূন্যের মাত্রায় নামিয়ে আনবেন।
★★মুসলিম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারঃ★★
ট্রা’ম্প আমলে যেসকল মুসলিম দেশের নাগরিকদের উপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিলো তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন জো বাইডেন।বাইডেনের প্রেসিডেন্সির প্রথম দিনই নির্বাহী আদেশে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেবন। মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আপনাদের অবদানকে সম্মান জানাতে এবং সমাজ থেকে ঘৃ’ণার বিষয় উপড়ে ফেলতে আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করবো। আমা’র প্রশাসন প্রতিটি স্তরেই মুসলিম আমেরিকানদের অবদান দেখতে চাইবে।
A Quick Disclaimer: There is no Rocket Science in political analysis. You may come up with different Insights regarding US foreign policy.
লেখকঃ মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

November 13, 2020
top
© Super30 Bangladesh. All rights reserved.
X