fbpx

বাংলদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা আলোচনা কর

মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিসমূহ এর অবদান

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা


২৬ মার্চ ১৯৭১ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআরের ওয়ারলেস যোগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী কাছে একটি বার্তা বা বাণী প্রেরণ করেন তিনি সেখানে উল্লেখ করেছিলেন “This may be last message to you from today Bangladesh is independent” এটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঐ মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। অতপর ৪ এপ্রিল ১৯৭১সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে (বর্তমান হবিগঞ্জ ) এমএজি ওসমানের নেতৃত্বে ৫০০০সামরিক ও ৮০০০বেসামরিক মোট ১৩ হাজার যোদ্ধা নিয়ে মুক্তিফৌজ নামে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। ১২ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুক্তিফৌজ নাম পরিবর্তন করে বাহিনীটির নামকরণ করা হয় মুক্তিবাহিনী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা ছিল অবস্মরণীয়।
পরবর্তীতে বিদেশে অর্থাৎ প্রবাসী সরকার গঠন করা হয় এবং এই সরকার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের নির্দেশে প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল খুবই নেতিবাচক এবং হতাশাব্যঞ্জক। যদিও মার্কিন জনগণ সংবাদমাধ্যম এবং কংগ্রেস ও সিলেটের বিপুলসংখ্যক সদস্য বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন কিন্তু নিক্সন রজার্স-কিসিঞ্জার প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পুরো নয় মাস পাকিস্তানকে সমর্থন জুগিয়েছে শুধু সমর্থনই নয় সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করেছে। কাজেই একথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তবে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকাকে কয়েকটি পর্বে আমরা ভাগ করে আলোচনা করতে পারি।
প্রথম পর্যায় (মার্চ-জুলাই ১৯৭১): মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সমস্যাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে অভিহিত করেন।এবং পাকিস্তান সরকারকে তার অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এবং বাংলাদেশ সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারকে আহবান করে। শুধু তাই নয় প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে যেসব শরণার্থী ভারতে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রশাসন এইসব শরনার্থীদের জন্য ত্রাণ খাদ্য, বস্ত্র ও ঔষুধ সহ বিভিন্ন ত্রাণ সরবরাহ করে। কাজেই শুরুর দিকে অর্থাৎ মার্চ থেকে জুলাই এই প্রথম পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা খুব বেশি প্রকট না হলেও তারা শরনার্থীদের উপর মোটামুটি সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।প্রথম পর্যায়ে ভারতে যারা শরনার্থী ছিল তাদের জন্য ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার সহায়তা দান করেছিলেন।
দ্বিতীয় পর্যায় ( জুলাই থেকে আগস্ট ১৯৭১): দ্বিতীয় পর্যায়ে মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশ সমস্যাকে আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ করে এবং পাকিস্তান সরকারের উপর কিছুটা চাপ প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সমস্যাকে একটি রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে সমস্যা সমাধান হয়নি বরং উত্তরোত্তর বাংলাদেশ সমস্যা আরো বেড়েই চলছিল। অথাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল।
তৃতীয় পর্যায় ( সেপ্টেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১): এই পর্যায়ে নিক্সন প্রশাসন আরো বেশি পাকিস্তানপন্থী হয়ে পড়েন এবং পাকিস্তান সরকারকে বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানে আরো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন।
চতুর্থ পর্যায় (৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ডিসেম্বর ১৯৭১): চতুর্থ পর্যায় ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে হোয়াইট হাউজে কিসিঞ্জার সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতকে আক্রমনকারী বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত করে। দিল্লি ও মস্কো ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্র এন্টারপ্রাইজ নামে পরমানবিক জাহাজের নেতৃত্বে ৮টি জাহাজের একটি টাস্কফোর্স বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এটা টাস্কফোর্স ৭৪ নামে পরিচিত।
এই মার্কিন কূটনীতিকরা জাতিসংঘে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন তার সঙ্গে চীন্ও ছিল কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন অর্থাৎ রাশিয়া জাতিসংঘের ভেটো প্রদান করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি। কাজেই মার্কিন নীতি বা মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যথতায় রূপান্তরিত হয় চতুর্থ পর্যায়ে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা একথা বলতে পারি যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুঃখজনক হলেও সত্য মার্কিন সরকার তথা মার্কিন প্রশাসন ছিল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। কিন্তু মার্কিন জনগণ এবং মার্কিন সংবাদপত্র ও সিনেট্ ও কংগ্রেস এর কিছু সদস্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ছিল। কাজেই যুদ্ধকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ বিবেচনা করেই পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। কাজেই একথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, ৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ছিল তবে যুদ্ধ পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এ ধরনের একটি বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে বাংলাদেশের দিকে সাহায্যের হাত অব্যাহত রাখে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা ছিল অবস্মরণীয়।

বনজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ ও খনিজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ সম্পদ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বনভূমি তিন প্রকারঃ১.ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমিঃ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের এলাকা জুড়ে এ বনাঞ্চল বিস্তৃত।

Read More »
বাংলাদেশের কুটির শিল্প

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ এর উন্নয়ন কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে এখনও কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। শিল্পখাতগুলোতে যথাযথ দিকনির্দের্শন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সরকারী আনুকুল্য প্রভৃতির মাধ্যমে

Read More »
শিক্ষা কমিশন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন’ গঠন শিক্ষা কমিশনঃ ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষা কমিশনের যাত্রা শুরু ১৮৮২ সালে। উইলিয়াম হান্টারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনের অন্যতম

Read More »
Layer 1
Login Categories
error: Content is protected !!
এই ওয়েবসাইটটি কুকিজ ব্যবহার করে এবং আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা মসৃণ করার জন্য আপনার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য (ওয়েব ব্রাউজিং সম্পর্কীয়) সংরক্ষণ করে। আপনার ব্রাউজারের login-এর তথ্য সংরক্ষণের জন্যে "Ok, I acknowledge" বাটনে ক্লিক করুন।