বাংলাদেশ – ভারত সম্পর্ক

বাংলাদেশ - ভারত সম্পর্ক

এশিয়ার ইকোনমিক জায়ান্ট বলতে মুলত ভারত এবং চীন এই দুটি দেশকেই বুঝায়। বাংলাদেশ একটি এশিয়ান দেশ হবার কারনে এ দুটি এশিয়ান পরাশক্তির আওতাবহির্ভূত হতে পারেনা।

আর ভারত বাংলাদেশের তিন দিক লতাবেষ্টিত করে রেখেছে। যখন তিন দিক থেকে একটি দেশ অন্য একটি দেশকে ঘিরে ধরে তখন স্থল বাণিজ্য কিংবা সমুদ্রবাণিজ্য উভয় ক্ষেত্রেই বড় দেশটি ছোট দেশকে একটি হাব হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে।

বৃহৎ শক্তির দেশগুলো আকারে ছোট দেশগুলোর অর্থনীতি, বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি এসব বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। বাংলাদেশ তার জন্মলগ্ন থেকেই ভারতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি দেশ। ভারত বাংলাদেশের জন্মকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছে। সময়ে অসময়ে ভারত বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নয়াদিল্লী সবসময় ঢাকাকে নিজের কব্জিতে রাখার প্রচেষ্টা করেছে।

নয়াদিল্লী সবসময় বাংলাদেশের মূখ্য ঘটনাবলী কড়া নজরদারিতে রাখার প্রচেষ্টা করেছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা তাদের কুটনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ।

কিন্তু বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরণের নজরদারি ক্ষণে ক্ষণে হতাশাব্যঞ্জকও মনে হতে পারে। কারন স্বাধীন হবার পর একটি দেশের অন্যতম কাজ হচ্ছে নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। যখন একটি দেশ স্বাধীন হয় তখন সেই দেশটি বিদেশী রাষ্ট্রের লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত হয়ে নিজেই নিজের একটা পররাষ্ট্রনীতি দাড় করায়।

কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি শতভাগ এখনো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নেই। এর কারন হচ্ছে বাংলাদেশের ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন। প্রতিটি নতুন সরকার আসলে আগত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নয়াদিল্লীর সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা করেছেন যা একটি স্বাধীন দেশকে স্ব-অধীন হতে দেয় না। ভারত বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্তিতি যুগ যুগ ধরে খুব কাছ থেকে দেখে আসছে এবং যখনই সুযোগ এসেছে পরিস্ততিকে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা করেছে।

আয়তনে বাংলাদেশ ভারতের বড় প্রদেশগুলোর প্রায় কাছাকাছি। তাই ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশের মর্যাদা দেওয়াটা এখনো দিতে শিখেনি। এর কারন হচ্ছে বাংলাদেশ এখনো ভারত মুখাপেক্ষী পররাষ্ট্রনীতি ত্যাগ করতে পারেনি।

ভারতের সাথে সম্পর্কের সুচনা হয় বাংলাদেশ জন্মের আগেই। একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করার আগেই ভারতের সাথে এই অঞ্চলের মানুষের একটা বোঝাপড়া হয়েছিল। বাংলাদেশের জন্মের বছর ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী সেসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বৈশ্বিকভাবে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার বদলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস বলে প্রচার করেছিলেন। ভারত যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশকে অস্ত্র, খাদ্য, আশ্রয় এবং সৈন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছিল।

♦একটা বড় প্রশ্ন আসতে পারে ভারত কি নি:স্বার্থ ভাবে এই সাহায্য করেছিল?

একদমই না। ভারত আমাদের সাহায্য করেছিল সেজন্য আমাদের অবশ্যই ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কিন্তু ভারত কোন প্রকার যুক্তি ছাড়া নিজেদের যুদ্ধে জড়ায়নি। পাকিস্তানের দুদিক থেকে আক্রমণ ভারতকে সর্বদাই এক ধরনের ঝুকিতে রাখত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেরর সময় ভারত এই ঝুঁকি চিরতরে শেষ করে দেওয়ার সুযোগ পায়। কারন পাকস্তান বিভক্ত হয়ে গেলে আর ভারতকে দুই দিক থেকে আক্রমনের মুখোমুখি হতে হবে না। ভারত বাংলাদেশকে নি:স্বার্থভাবে সাহায্য করেনি, এখানে তাদেরও নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল।

তবে সবকিছু বাদ দিলে এটা ঠিকই যে তারা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধকালে সাহায্য করেছিল। অনেক ভারতীয় সেনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। তাই ভারত রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছিল। সেই মূল্যায়ন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন করতে পারেনি। কিছুদিন আগেই ভারতের অনেক জীবিত এবং প্রয়াত সেনাকে বাংলাদেশ বিভিন্ন সম্মানে সম্মানিত করেছে।

♦ভারত কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে নিয়েছে?

ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার এক প্রকার করে নিলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে শতভাগ স্বীকার করেনি। এর পেছনে বিরাট একটি কাহিনী রয়েছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বদলে তৃতীয় পাক ভারত যুদ্ধ বলেই চালিয়ে যেতে বেশি পছন্দ করে।

এর কারন হচ্ছে একাত্তরের আত্মসমর্পণ দলিল। একাত্তরের পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে করেনি। পাকিস্তানিরা একটি অনিয়মিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারত না। যদি পাকিস্তান সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করত তাহলে তাদের ৯৩ হাজার সেনাকে বাংলাদেশ মেরে ফেলত। কারন বাংলাদেশ জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ ছিলনা। তাই পাকিস্তান বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলে সেনাদের কোন সুযোগ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ বাধ্য থাকত না। তার উপর প্রাণহানির ঝুঁকি তো ছিলই পাকিস্তানীদের।

তাই তারা একটি নিয়মিত বাহিনীর কাছেই আত্মসমর্পণ করাকে নিরাপদ মনে করছে। আত্মসমর্পণকারীদের ভারত তাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা সহ নানান সুবিধা দিয়েছে। এই সুবিধা সমুহ বাংলাদেশ পাকিস্তানকে দিতে বাধ্য ছিল না। কারন বাংলাদেশ জেনেভা কনভেনশন এর নিয়ম মানতে বাধ্য ছিলনা।

♦ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক:

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আছি। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিছুটা হলেও চলে আসে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুরু বাংলাদেশের জন্মলগ্ন হতেই। বাংলাদেশ যখন নবজাতক দেশ তখন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক ভারত। সেটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

কিন্তু বাংলাদেশ আজ একটু একটু করে নিজের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে শিখছে। ভারতের সাথে শুরু থেকে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরেই বাংলাদেশ সফরে আসেন। সেই সময় বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় (১৯৭৪) বাংলাদেশের সাথে ভারতের ভূমি সংক্রান্ত বিবাদের অবসান করার চেষ্টা করেছিলেন।

১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি ভারতের সাথে বাংলাদেশের ছিটমহল সংক্রান্ত বিবাদ সমাধানকল্পে অগ্রসর হয়েছিল। বাংলাদেশের সংসদ সেই চুক্তিকে সানন্দে গ্রহন করেছিল।কিন্তু এই চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে ভারতকে তাদের সংবিধানের নিয়ম পরিবর্তন করতে হত। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ভারতের বিরোধী দলগুলোর বিরোধীতার কারনে চুক্তিটি আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে সেই চুক্তিটি ঐতিহাসিক ছিল সেটা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। ২০১৫ সালের মে মাসে ভারত সেই চুক্তির শর্ত মোতাবেক চুক্তিটি রাজ্যসভা এবং লোকসভায় অনুমোদন করায়। তাই বলা যায় ১৯৭৪ সালের মুজিব ইন্দিরা চুক্তি তাৎক্ষণিক আলোর মুখ না দেখলেও তার সুদুরপ্রসারি একটি প্রভাব ছিল।

ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফলতার পাল্লা ভাড়ি এমন কিছুর অস্তিত্ব খুব কমই আছে।

♦তিস্তার পানি নিয়ে টানাপোড়ন:

ভারত তিস্তা ইস্যুতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে নতমস্তক। কারন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মমতা বন্দোপাদ্যায়ের সিদ্ধান্তকে ছাপিয়ে যাবার ক্ষমতা নেই। ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যসব ইস্যুতে ভারত সরব থাকলেও এক তিস্তা ইস্যুতে ভারত নিরাপদ দুরত্বে বজায় রাখছে।

ভারত ১৯৭৫ সালে ভারতীয় গঙ্গা অংশে ফারাক্কা বাধ নির্মান করে। এই বাধ নির্মানের ফলে বাংলাদেশে এই নদীর পানির নায্য হিস্যা পাচ্ছে না। ভারত শুকনো মৌসুমে এই নদীর পানি আটকে তা কৃষিকাজের জন্য ব্যাবহার করে। এই বাধ ভারতের কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হলেও বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য তা হতাশার কারন। কারন এতে বাংলাদেশের কৃষিজমির একটি বিরাট অংশ শুকিয়ে যায়। তিস্তা তীরবর্তী জমির কৃষকেরা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পায়না।

সেই দুর্গতি কেবল যে শুকনো মৌসুমে তা নয়। বর্ষাকালে সেই দুর্গতি আরো বেড়ে যায়ম কারন বর্ষায় তিস্তার পানি ভারত ছেড়ে দেয় যা উত্তরবঙ্গজুড়ে বন্যার সৃষ্টি করে। ভারতের সাথে গঙ্গার(তিস্তা) পানি বন্টনের জন্য একাধিকবার প্রচেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশ সাফল্যের মুখ দেখেনি। শুরুতেই ভাষানী লং মার্চ করেছিলেন ফারাক্কা বাধ নির্মাণের বিরুদ্ধে।

ভারতের সাথে এরপরে দ্বিপাক্ষিক অনেক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে ভারত আপন আপন স্বার্থে কখনো আপোষ করেনি।

২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফর করেন। সফরে তিনি এক সম্মোহনী বক্তৃতা দিয়ে সবার মন জয় করে বিদায় নিলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞের মত তিনি সুকৌশলে তিস্তার পানি বন্টনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন। এই বিষয়টি সবার নজরে ছিল কিনা সেটি ভাবার বিষয়।

♦ঋণ চুক্তি:

ভারত বাংলাদেশে ২০১৭ সালে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এরপুর্বেও ভারত বাংলাদেশকে বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ দিয়েছে। কিন্তু এসব কিছুর পরেও এটা বলার সুযোগ নেই যে এই ঋণ বাংলাদেশের জন্য লাভের কারন হবে।

কারন ঋণের শর্ত অনুযায়ী ভারত এই ঋণের প্রকল্পগুলোতে ভারতীয় শ্রমিকের ব্যাবহার করবে।এতে এক দিকে যেমন ভারতীয় শ্রমশক্তির একটা বিরাট অংশ কাজ পাচ্চে অন্যদিকে তাদের দেশের অর্থ পুনরায় তাদের দেশেই চলে যাচ্ছে। তাই আপাতদৃষ্টিতে ভারত আমাদের সহযোগীতা করছে মনে হলেও তা আসলে ভারত আপন আপন স্বার্থের খাতিরেই করছে।

♦ট্রানজিট :

ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে ট্রানজিট নিয়ে তাদের পণ্য এক প্রদেশ থেকে দ্রুত আরেক প্রদেশে প্রেরণ করছে। এতে করে ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে বিরাট সুবিধা পাচ্ছে। কারন আগে যে পণ্য সারা ভারত ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে হত তা এখন বাইপাস করে সহজেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এর বদলে বাংলাদেশ কি পাচ্ছে? বাংলাদেশকি সারা ভারত জুড়ে নিজেদের পণ্য নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক বাজারে এসব চুক্তি ও সমঝোতা সমান সমান স্বার্থ নিয়ে করাটা জরুরি। শুধু এক পক্ষের জন্য আম আর অন্য পক্ষের জন্য আমের আটি রেখে দিয়ে এরকম চুক্তি হলে তা কেবল ব্যবধান বাড়াবেই। একে নব্য সাম্রাজ্যবাদ বললেও মন্দ হয়না।

♦সাংস্কৃতিক অধঃপতন :

টেলিকমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশকে একটি বিরাট বাজার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে তাদের শক্ত ঘাটি গেড়েছে। বাংলাদেশের দর্শকেরা ভারতীয় চ্যানেলের প্রতি এতটাই ঝুকে গেছে যে তা পরিসংখ্যান না দেখে বুঝা মুশকিল। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের ১৭ ভাগ কেবল তিনটি ভারতীয় চ্যানেল দেখার কারনে অপচয় হচ্ছে। এতেই বুঝা যায় মাতাল হতে কেবল মদ ও মদিরা পান করার দরকার হয় না, চ্যানেল দেখেও মানুষ মাতাল হতে পারে।

কিন্ত কথা হচ্ছে এসব ভারতীয় চ্যানেল প্রায় বিনা বাধায় বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। কিন্তু বাংলাদেশের কোন চ্যানেল কি ভারতে প্রবেশ করতে পারছে? নাকি কাঁটাতার মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাড়াচ্ছে? বাংলাদেশ নিজের সংস্কৃতি ভারতের সংস্কৃতির কাছে সমর্পণ করছে। যদি ভারত তার নিজের সংস্কৃতি লালন করত তাহলে বাংলাদেশের এই সমর্পণে তেমন সমস্যা ছিলনা। কিন্তু ভারতই পাশ্চাত্যের ধার করা সংস্কৃতির চর্চা করছে। তাই বাংলাদেশ নিজের সাংস্কৃতিক শেকড় ভুলে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে মজে যাচ্ছে।

♦বাংলাদেশের করনীয় :

বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী দেশ।

তাই ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখাটা জরুরি। কিন্তু এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থ যাতে সমুন্নত থাকে সেটাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ভারতের সাথে যেকোন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অথবা সমঝোতা স্বাক্ষর করার পুর্বে বাংলাদেশকে অবশ্যই কূটনৈতিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিতে হবে। এ কথা মাথায় রাখতে হবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোড়দার করা প্রয়োজন, কিন্তু অনিবার্য নয়।

top
© Super30 Bangladesh. All rights reserved.
X