fbpx

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভারতের শাসনামল

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনামলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা
নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভারত শাসনঃ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর মীরজাফর বাংলার নবাব হন। তিনি ছিলেন নামমাত্র নবাব। প্রকৃত ক্ষমতা ছিল ইংরেজদের হাতে। ইংরেজরা ১৭৬০ সালে মীরজাফরকে সরিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে বাংলার নবাবী দান করে। কিন্তু শীঘ্রই স্বাধীনচেতা মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের দ্বন্দ বাধে। অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং দিল্লীর সম্রাট শাহ আলমের সহায়তা পাওয়া সত্ত্বে ও মীর কাশিম ‘বক্সারের যুদ্ধে’ ইংরেজদের নিকট পরাজিত হন। লর্ড ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দ্বিতীয়বারের মত বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হলে বাংলায় সরাসরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন চালুর ব্যবস্থা করেন।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আয় বৃদ্ধির জন্য দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রচলন

লর্ড ক্লাইভ ও দ্বৈত শাসন (১৭৬৫-১৭৬৭): ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। ক্ষমতালোভী নবাব বংশধর ও অনুচরদের তুষ্ট রেখে কোম্পানীর আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রচলন করেন। এ নীতি অনুযায়ী রাজস্ব আদায় ও দেশরক্ষার ভার কোম্পানীর হাতে রাখা হয় এবং শাসন বিভাগের ক্ষমতা নবাবের হাতে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থা হতে নবাবের কর্তৃত্ব খর্ব করা হয় এবং জনগণের উপর বিভিন্ন ধরনের কর আরোপের ফলে জনগণের দূর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব হিসেবে পরবর্তীতে বাংলায় ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ সংঘটিত হয়। লর্ড ক্লাইভ বাংলার প্রথম ব্রিটিশ গভর্নর। গভর্নর নিযুক্ত হওয়ার পর ১৭৬৭ সালে তিনি বীরবেশে দেশে ফিরে যান।

গভর্নর কার্টিয়ার (১৭৬৯-১৭৭২): এ সময়ে সমগ্র বাংলায় দ্বৈত শাসনের প্রভাব পড়তে থাকে। দ্বৈত শাসনের প্রভাবে জনগণ ব্যাপক অর্থকষ্টের সম্মুখীন হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বাংলা ১১৭৬ সালে (ইংরেজী ১৭৬৯-১৭৭০) বাংলায় ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এই দূর্ভিক্ষ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে খ্যাত।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত

ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭২-১৭৭৪, ১৭৭৪-১৭৮৪): কোম্পানীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি প্রথমেই দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন। তিনি মুঘল সম্রাটের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদান বন্ধ করে দেন। ভূমি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে জমিদার শ্রেণী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচশালা ভূমি বন্দোবস্ত প্রতা চালু করেন।

লর্ড কর্ণওয়ালিশ (১৭৮৬-১৭৯৩, ১৮০৫): তিনি মারাঠা, নিযাম ও টিপু সুলতানের শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে সফল হন। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং স্থায়ী অনুরক্ত শ্রেণী সৃষ্টির মানসে তিনি দশশালা বূমি বন্দোবস্তা প্রথা চালু করেন। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ তিনি ‘চিরস্থায়ী বন্দাবস্তা’ প্রথা চালুর মাধ্যমে ‘সূর্যাস্ত আইন’ বলবৎ করেন। একই সালে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের জন্য সহমরণ বিষয়ক ‘সতীদাহ প্রথা’ প্রবর্তন করেন।

লর্ড ওয়েলেসলি ( ১৭৯৮-১৮০৫): ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে উগ্র প্রচেষ্টার জন্য সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়লাট। তিনি ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ নীতি প্রবর্তন করেন।

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৮২৮-১৮৩৫): তার শাসনামল উপমহাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা সংস্কারের জন্য বিখ্যাত। সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি ভারতীয়দের জন্য ‘সাব জজ’ ও ‘মুন্সেফ’ পদ সৃষ্টি করেন। রাজা রামহোহনের সহায়তায় ১৮২৯ সালে তিনি ‘সতীদাহ প্রথা’ বাতিল করেন। ১৮৩৫ সালে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। একই সালে তিনি ‘ম্যাকলে শিক্ষানীতি’ প্রণয়ন করেন।

লর্ড হেনরি হার্ডিঞ্জ (১৮৪৪-১৮৪৮): ভারতবর্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশেষত বেল যোগাযোগে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি শিখদের যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং এককোটি টাকা জরিমানা আদায়ের জন্য গোলাপ সিং নামে এক ব্যক্তির নিকট ৭৫ লক্ষ টাকায় জম্মু ও কাশ্মীর বিক্রয় করেন।

লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬): সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন। তার উগ্র সাম্রাজ্যবাদী নীতির কারণে দেশীয় বিভিন্ন গোত্র ও আঞ্চলিক শক্তি ইংরেজদের উচ্ছেদ করার সংকল্প করতে থাকেন যা পরবর্তীতে সিপাহী বিপ্লবের দিকে ভারতবর্ষকে ঠেলে দেয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্রঅসাগরের সহায়তায় ১৮৫৬ সালে তিনি বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করেন।

লর্ড ক্যানিং (১৮৫৬-১৮৫৭): তিনি শেষ গভর্নর জেনারেল। এসময় ইংরেজদের দাসত্ব হতে মুক্তিলাভের জন্য বিখ্যাত ‘সিপাহী বিপ্লব’ (১৮৫৭ সাল) সংঘটিত হয়। তিনি কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।

রাজা রামহোহনের সহায়তায় ১৮২৯ সালে তিনি ‘সতীদাহ প্রথা’ বাতিল করেন। ১৮৩৫ সালে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। একই সালে তিনি ‘ম্যাকলে শিক্ষানীতি’ প্রণয়ন করেন।

লর্ড হেনরি হার্ডিঞ্জ (১৮৪৪-১৮৪৮): ভারতবর্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশেষত বেল যোগাযোগে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি শিখদের যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং এককোটি টাকা জরিমানা আদায়ের জন্য গোলাপ সিং নামে এক ব্যক্তির নিকট ৭৫ লক্ষ টাকায় জম্মু ও কাশ্মীর বিক্রয় করেন।

লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬): সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন। তার উগ্র সাম্রাজ্যবাদী নীতির কারণে দেশীয় বিভিন্ন গোত্র ও আঞ্চলিক শক্তি ইংরেজদের উচ্ছেদ করার সংকল্প করতে থাকেন যা পরবর্তীতে সিপাহী বিপ্লবের দিকে ভারতবর্ষকে ঠেলে দেয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্রঅসাগরের সহায়তায় ১৮৫৬ সালে তিনি বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করেন।

লর্ড ক্যানিং (১৮৫৬-১৮৫৭): তিনি শেষ গভর্নর জেনারেল। এসময় ইংরেজদের দাসত্ব হতে মুক্তিলাভের জন্য বিখ্যাত ‘সিপাহী বিপ্লব’ (১৮৫৭ সাল) সংঘটিত হয়। তিনি কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।

বনজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ ও খনিজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ সম্পদ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বনভূমি তিন প্রকারঃ১.ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমিঃ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের এলাকা জুড়ে এ বনাঞ্চল বিস্তৃত।

Read More »
বাংলাদেশের কুটির শিল্প

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ এর উন্নয়ন কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে এখনও কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। শিল্পখাতগুলোতে যথাযথ দিকনির্দের্শন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সরকারী আনুকুল্য প্রভৃতির মাধ্যমে

Read More »
শিক্ষা কমিশন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন’ গঠন শিক্ষা কমিশনঃ ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষা কমিশনের যাত্রা শুরু ১৮৮২ সালে। উইলিয়াম হান্টারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনের অন্যতম

Read More »
Layer 1
Login Categories
error: Content is protected !!
এই ওয়েবসাইটটি কুকিজ ব্যবহার করে এবং আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা মসৃণ করার জন্য আপনার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য (ওয়েব ব্রাউজিং সম্পর্কীয়) সংরক্ষণ করে। আপনার ব্রাউজারের login-এর তথ্য সংরক্ষণের জন্যে "Ok, I acknowledge" বাটনে ক্লিক করুন।