fbpx

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যুগে সিপাহী বিপ্লব

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি"।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যুগে ‘মঙ্গল পান্ডে’’র বিদ্রোহ ঘোষণা

২৬ জানুয়ারী-১৮৫৭ প্রথম দমদমে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ২৯ মার্চ-১৮৫৭ ব্যারাকপুরের সেনা ছাউনিতে ‘মঙ্গল পান্ডে’ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর বিরুদ্ধে বিদ্রহ ঘোষণা করেন এবং শহীদ হন। সিপাহী বিদ্রোহে তিনি প্রথম শহীদ হন। সিপাহীরা দিল্লী দখল করে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে স্বাধীন ভারতের ‘বাদশাহ’ বলে ঘোষণা করেন। ঢাকায় সিপাহী বিপ্লব সংঘটিত হয় সিপাহী রজব আলীর নেতৃত্বে। বিদ্রোহীদের প্রধান সেনাপতি ছিলেন পেশোয়া বাজীরাওয়ের পোষ্যপুত্র ধন্ধপন্থ (নানা সাহেব)। ব্রিটিশ সেনানায়ক মেজর হাডসন দিল্লী দখল করে সম্রাট বাহাদুর শাহকে গ্রেফতার করে রেঙ্গুনে নির্বাসন দেন। ১৮৫৮ সালের ৭ জুলাই ইংরেজরা শান্তি ঘোষনা করে।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যুগের অবসান

১৮৫৭ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণার ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনের অবসান ঘটে। এই আইনে বলা হয়, এখন থেকে ব্রিটিশ রাজা ও রানীর পক্ষে মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য ব্রিটিশ ভারতের শাসনভার গ্রহণ করবেন। তার উপাধি হয় ভারত সচিব। তখন থেকে গর্ভনর জেনারেল পদবি ভাইসরয়ে রূপান্তিরিত হয়। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের আইন দ্বারা কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ ছিল একটি নামফলক বদল মাত্র।

ইস্ট ইন্ডিয়া যুগের অবসান পর ব্রিটিশ সরকারের ভারত শাসন

১৮৬২ সালে ভারতের সর্বপ্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং অবসরগ্রহণ করলে লর্ড এলগিন স্বল্পকাল (১৮৬২-৬৩) ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বড় লাটের পদে আসীন হন লর্ড লরেন্স। অনেকের মতে লরেন্সের শাসনকাল (১৮৬৪-৬৯) ছিল লর্ড ক্যানিং এর শাসননীতির পরিপূরক। পরবর্তীতে আরো যারা ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি হয়ে আসেন তাদের মধ্যে উলে­খযোগ্য কয়েকটি নাম হলো লর্ড লিটন (১৮৭৬-৮০), লর্ড রিপন (১৮৮০-৮৪), লর্ড হার্ডিঞ্জ (১৯১০-১৬), লর্ড লিনলিথগো (১৯৩৬-৪৩) এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেন (১৯৪৫-৪৭)।

ব্রিটিশ শাসন বিরোধী বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহঃ

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহঃ ফকির-সন্ন্যাসীরা হিন্দু-মুসলমান ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একটি দল। কোম্পানির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নবাব মীর কাশিসের আহবানে ফকির-সন্ন্যাসীরা তাঁর পক্ষে যুদ্ধ করেছিল। ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত প্রলম্বিত ফকির-সন্ন্যাসীদের সশস্ত্র আন্দোলন ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপু, বগুড়া, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহ ও পুর্ণিয়া জেলায় স¤প্রসারিত হয়েছিল। ওয়ারেন হিস্টিংস ফকির-সন্ন্যাসীদের দমন করার জন্য কয়েক দফা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ১৮০০ সাল নাগাদ ফকির-সন্ন্যাসীরা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

নীল বিদ্রোহঃ বাংলার কৃসকগণ ১৮৫৯-৬২ সালে ইউরোপীয় নীলকরদের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সকলে একতাবদ্ধ হয়ে নীলচাষ বর্জন করার আন্দোলন গড়ে তোলে, যা নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় এ দেশে বাণিজ্যিকভাবে নীল চাষ শুরু হয় অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে। নীল চাষ না করলে বা সময়মতো কুঠিতে পরিমাণ মতো নীল গাছ সরবরাহ না করলে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। ১৮৬০ সালের মার্চ মাসে নীল বিদ্রোহ তুঙ্গে ওঠে। সরকার গোটা নীলব্যবস্থা সম্পর্কে তদন্তের জন্য একটি কমিশন (নীল কমিশন) গঠন করে (১৮৬০ সালের মার্চে)। ১৮৯৭ সালে রাসায়নিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম নীল প্রস্তুত-প্রণালী আবিস্কৃত হলে নীল চাষ সম্পনূর্ণভাবে লোপ পেতে থাকে। বাংলার নীল বিদ্রোহ ছিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সংঘবদ্ধ বিদ্রোহাত্মক আন্দোলন।

তিতুমীরের বিদ্রোহঃ উনিশ শতকের গোড়ার দিকে তিতুমীরের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে একটি প্রজা আন্দোলনের সূচনা হয়। তিতুমীরের আসল নাম মীর নিসার আলী। তিনি ১৮২২ সালে হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেন। সেখানে ওহাবী আনোদলনের নেতা সৈয়দ আহমদ শহীদের সাথে সাক্ষাৎ ও ওহাবী মতবাদ গ্রহণ করেন। তিতুমীরের আন্দোলন প্রথমে ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তিতুমীর ১৮৩১ সালের ২৩ অক্টোবর নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে ভরতপুরের জাঠদের অনুকরণে বাঁশের তৈরী একটি সুরক্ষিত কেল্লা নির্মাণ করেন এবং প্রচুর রসদ ও অস্ত্র সংগ্রহ করেন। গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে সুসংগঠিত ও অস্ত্রশস্ত্রে (কামানসহ) সজ্জিত ইংরেজবাহিনী কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লার ওপর আক্রমণ চালায়। ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের পথিকৃৎ অসমসাহসী বীর-বাঙ্গালী যোদ্ধা তিতুমীর যুদ্ধ ক্ষেত্রেই শহীদ হন (১৯ নভেম্বর ১৮৩১)।

সাঁওতাল বিদ্রোহঃ কোম্পানির ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা ও জমিদারী প্রথা আদিবাসী অঞ্চলে চালু হলে সহজ-সরল প্রাণ আদিবাসী জনগোষ্ঠী জমিদার ও মহাজন শ্রেণীর প্রবঞ্চনার শিকার হয়। ১৮৪৫-৫৫ সালে এই শোষণ-অত্যাচার অীবচার প্রসূত বিক্ষোভ থেকে প্রবল বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়, যা ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসী অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে কঠোর হাতে এই বিদ্রোহ দমন করে।

কৃষক আন্দোলনঃ ১৯৪০ এর দশকে সংঘটিত তেভাগা বা আধিয়ার আন্দোলন, টঙ্ক আন্দোলন ও নানকার আন্দোলন ছিল সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ এবং এ বিদ্রোহ পরিচালিত হয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গ সংগঠন কৃষক সমিতির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তথা ১৯৪৬ সালে বাংলায় ‘তেভাগা আন্দোলন’ চরম আকার ধারণ করে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর রাজশাহীর নাচোল ও নবাবগঞ্জের ইলা মিত্র ও রমেন মিত্রের নেতৃত্বে সাঁওতাল ও ভাগচাষীদের আন্দোলন পুনরায় শুরু হলেও সরকারের অত্যাচার ও দমননীতি শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলনের যবনিকা ঘটায়।

খিলাফত আন্দোলনঃ ১ম বিশ্ব যুদ্ধে তুরস্কের পতন ঘটলে তুর্কী সাম্রাজ্যের অখণ্ডত ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য ১৯১৯ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন পরিচালিত হয়। ৩১ আগস্ট খিলাফত দিবস পালন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে কামাল আতার্তুক তুরস্কে খিলাফত উঠিয়ে সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করলে খিলাফত আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে।

অসহযোগ আন্দোলনঃ মহাত্মা গান্ধী অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের জনক। অসহযোগের মাধ্যমে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে ব্রিটিশ সরকারকে দাবি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য সর্বপ্রকার অসহযোগিতা করাই এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। ১৯২০ সালে কংগ্রেসের এক বিশেষ অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিল ‘সত্যাগ্রহ’ বা নিরস্ত্র নীতি’। হিন্দু মুসলিম একতাবদ্ধ হয়ে এ আন্দোলনে যোগ দেয় এবং ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করে। পরবর্তীতে আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠলে এবং উত্তেজিত জনতা কর্তৃক আগুন লাগিয়ে ২১ জন পুলিশকে পুড়িয়ে ফেললে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

বনজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ ও খনিজ সম্পদ

বাংলাদেশের বনজ সম্পদ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বনভূমি তিন প্রকারঃ১.ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমিঃ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের এলাকা জুড়ে এ বনাঞ্চল বিস্তৃত।

Read More »
বাংলাদেশের কুটির শিল্প

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ

বাংলাদেশের শিল্প সম্পদ এর উন্নয়ন কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে এখনও কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। শিল্পখাতগুলোতে যথাযথ দিকনির্দের্শন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সরকারী আনুকুল্য প্রভৃতির মাধ্যমে

Read More »
শিক্ষা কমিশন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন’ গঠন শিক্ষা কমিশনঃ ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষা কমিশনের যাত্রা শুরু ১৮৮২ সালে। উইলিয়াম হান্টারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনের অন্যতম

Read More »
Layer 1
Login Categories
error: Content is protected !!
এই ওয়েবসাইটটি কুকিজ ব্যবহার করে এবং আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা মসৃণ করার জন্য আপনার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য (ওয়েব ব্রাউজিং সম্পর্কীয়) সংরক্ষণ করে। আপনার ব্রাউজারের login-এর তথ্য সংরক্ষণের জন্যে "Ok, I acknowledge" বাটনে ক্লিক করুন।